শনিবার ২০ জুন ২০২৬ - ২১:৩০
ইমাম হুসাইন (আ.)-কে শুধু আশুরার যুদ্ধের মাধ্যমে চেনা উচিত নয়

কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার বহু আগেই ইমাম হুসাইন (আ.) সমাজ সংস্কার ও সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে মিনা ও আরাফাতে তিনি আলেম, জ্ঞানী ও সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি মানুষকে সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং নানা বিভ্রান্তির মধ্যে সত্যকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহীদ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (রহ.) তাঁর এক বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আন্দোলনকে কেবল আশুরার দিনের যুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে দেখা একটি অসম্পূর্ণ উপলব্ধি।

তিনি বলেন— “ইমাম হুসাইন (আ.)-কে শুধু আশুরার দিনের যুদ্ধের মাধ্যমে চেনা উচিত নয়। সেটি তাঁর জিহাদ ও সংগ্রামের একটি অংশমাত্র। তাঁর সত্যের তাবলিগ, মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান—এসবও তাঁর আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য দিক।

মিনা ও আরাফাতে তিনি আলেম ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে এমন সব গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন, যা ইতিহাসের পৃষ্ঠায় সংরক্ষিত রয়েছে। এরপর কারবালার পথে এবং কারবালার প্রান্তরেও তিনি নিরলসভাবে মানুষকে সত্যের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন।

এমনকি কারবালার যুদ্ধক্ষেত্রেও তিনি সত্যের ব্যাখ্যাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন। যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে, যখন উভয় পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত, তখনও তিনি প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন—হয়তো তাদের বিবেক জাগ্রত হবে, তারা সত্যকে চিনতে পারবে।

কিন্তু সবার প্রতিক্রিয়া এক ছিল না। কেউ ছিল গাফেল; তারা জেগে উঠেছিল এবং সত্যকে গ্রহণ করেছিল। আবার কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদেরকে সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিল; শেষ পর্যন্তও তারা জাগ্রত হয়নি।

যারা নিজেরাই সত্যকে উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং নিজেদেরকে 'ঘুমিয়ে থাকার' ভান করে, তাদের জাগিয়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন—কখনও কখনও তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।”

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha